বুধবার ১৩ মে ২০২৬ - ১৩:১৩
আল-মুস্তাফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মিশরের আল-আযহারের সাম্প্রতিক অবস্থানের জবাব

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রত্যাশা করা হয় যে, তারা তাদের জাগরণের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে এবং গণমাধ্যমের পরিবেশ ও রাজনীতিবিদদের চালাকি ও কুটিলতার ওপর ভিত্তি করে নীতিমালার দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে, পবিত্র কোরআন ও মহানবীর (সা.) সম্মানিত সুন্নাহকে তাদের বিচারের মানদণ্ড করবে, যাতে ইসলামি উম্মাহর কাছে বাস্তবতা উল্টো করে উপস্থাপিত না হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি অঞ্চলের ঘটনাবলি স্পষ্ট করতে এবং আল-আযহার গৃহীত অবস্থানের জবাবে আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা বিবৃতির পাঠ নিম্নরূপ:

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

ইসলামি বিশ্বের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি এবং অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কিছু বিবৃতি ও অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, আল- মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যা বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞান প্রসার এবং মহানবী (সা.)-এর উম্মাহর ঐক্যের দায়িত্ব বহন করে, বিশ্ব ইসলামের জনমত ও অভিজাতদের কাছে বিষয়গুলো পরিষ্কার করার জন্য নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলো উল্লেখ করা জরুরি মনে করে:

প্রথম: বৈধ আত্মরক্ষা ও যুদ্ধ প্ররোচনা থেকে বিরত থাকা:

ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র তার সাম্প্রতিক ইতিহাসে কখনোই কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি এবং তার কৌশল সর্বদা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলি কেবলমাত্র সেই আক্রমণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি বৈধ, প্রতিরোধমূলক ও আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কিছু প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডকে কাজে লাগিয়ে ইরানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে।

দ্বিতীয়: একটি ইসলামি দেশের বিরুদ্ধে কুফরি জোটকে সাহায্য করার শরয়ি নিষেধাজ্ঞা (বাগি হওয়ার ফতোয়া):

ইরান ইসলামি বিশ্বের শক্তিশালী শরীরের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমিরাতের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীর যুদ্ধ-প্ররোচনায় অংশগ্রহণ, সহায়তা ও সমর্থন দেওয়ার সঠিক ফিকহি ও শরয়ি পরিভাষা হচ্ছে 'বাগি' (বিদ্রোহী)। সুস্পষ্ট কোরআনি আয়াতের ভিত্তিতে কুফর ও অহংকারের জোটকে মুসলিম ভাইদের বিরুদ্ধে সাহায্য করা সম্পূর্ণরূপে হারাম এবং ইসলামি প্রতিরোধ জোটকে দুর্বল করার কারণ।

তৃতীয়: যুক্তিবাদ ও প্রতিবেশি সদ্ভাবের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধতা:

ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র বারো দিনের বলপ্রয়োগের যুদ্ধ হোক বা সাম্প্রতিক চল্লিশ দিনের সংঘর্ষ, কখনোই যুক্তিবাদ, কূটনীতি ও আলোচনার পথ পরিত্যাগ করেনি। ইরানের নিশ্চিত নীতি সর্বদা 'প্রতিবেশি সদ্ভাব', পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ইসলামি বিশ্বের পরিবারভুক্তদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ভ্রাতৃত্বপূর্ণভাবে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে এসেছে।

চতুর্থ: ইসলামি পণ্ডিত ও আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব:

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রত্যাশা করা হয় যে, এই ঐতিহাসিক মোড়ে তারা তাদের জাগরণের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে। এই ইসলামি বিশ্বের পরিচিত প্রতিষ্ঠানের উচিত, গণমাধ্যমের পরিবেশ এবং বিশেষ করে পশ্চিমা নির্ভর রাজনীতিবিদদের চালাকি ও কুটিলতার ওপর ভিত্তি করে নীতিমালা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে, কেবলমাত্র সুদৃ৞ বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় যুক্তির ওপর নির্ভর করা এবং পবিত্র কোরআন ও নবীর (সা.) সম্মানিত সুন্নাহকে তাদের বিচারের মানদণ্ড করা, যাতে ইসলামি উম্মাহর কাছে বাস্তবতা উল্টো করে উপস্থাপিত না হয়।

পঞ্চম: যুদ্ধে ইসলামি নৈতিকতা পালন:

জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠী ও তার পশ্চিমা এবং আঞ্চলিক সমর্থকদের অপরাধমূলক পদ্ধতির বিপরীতে, ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসলামি ও নৈতিক মানদণ্ড সম্পূর্ণভাবে মেনে চলেছে। তারা কোনো নিরীহ সাধারণ নাগরিককে লক্ষ্য করেনি, কিংবা কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও অসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেনি। এই অভিযানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু ছিল অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যেগুলো সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিকল্পনা ও সূচনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। যে ক্ষেত্রে অপরাধী শত্রু উল্লেখিত দেশগুলোর সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবকাঠামোর ক্ষতি করেছে, সেখানে পবিত্র আয়াত "অতএব তোমাদের ওপর যে আক্রমণ করে, তারা যে ধরনের আক্রমণ করে, তোমরাও সে ধরনের প্রতিশোধ নাও" (সূরা বাকারা, ১৯৪) -এর নির্দেশ অনুযায়ী সমপরিমাণে প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে।

আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় সকল ইসলামি দেশকে সাধারণ আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্য ও সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি, বিশ্ব ইসলামের অভিজাত, পণ্ডিত ও চিন্তাবিদদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে যে, তারা প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে ইসলামের কট্টর শত্রুদের বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করুক এবং সে সকল দেশের শাসকদের যারা ইসলামি ভূখণ্ডকে কাফেরদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে যাতে তা থেকে অন্য একটি ইসলামি দেশে আক্রমণ করা হয়, তাদেরকে এ মহাপাপ থেকে বিরত হতে অনুরোধ করুক।

আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha